ইউনুছ শিকদার, সুবর্ণচর (নোয়াখালী) প্রতিনিধিঃ আধুনিক (মাচাং) পদ্ধতিতে বেবি তরমুজ চাষ করে সাফল্য অর্জন করে এলাকার কৃষকদের মনে আশা জাগিয়েছেন নোয়াখালী সুবর্ণচর উপজেলার পশ্চিম চরবাটা ইউনিয়নের চর মজিব গ্রামের আলা উদ্দিন। স্থানীয় একটি এনজিও ’র সহযোগীতায় ৮৩ শতাংশ জমিতে এ (মাচাং) পদ্ধতিতে ব্লাক সুগার এবং ইয়েলো ড্রাগন জাতের বেবি তরমুজ চাষ শুরু করেন আলা উদ্দিন। প্রাকৃতিক প্রতিকূলতায় এ জাতের তরমুজের কোন ক্ষতির সম্ভাবনা না থাকায় সাফল্যের মুখ দেখেছেন আলা উদ্দিন।

রবিবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে সরে জমিনে গিয়ে কথা হয় বেবি তরমুজ চাষি আলা উদ্দিনের সাথে, জানান সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থার সহযোগিতায় বেবি তরমুজের চাষ শুরু করেন। প্রথমে আশ্চর্য মনে হলেও মাচাং পদ্ধতি এখন খুব ভালো লাগে। ৮৩ শতাংশ জমিতে আলা উদ্দিনের খরচ হয়েছে ৪০-৪৫ হাজার টাকা। আনুমানিক লাখ টাকার কাছাকাছি তরমুজ বিক্রি হতে পারে বলে জানান এ চাষি। আলাউদ্দিন জানান, খরচ দেশি তরমুজ চাষের অর্ধেক এবং ফলন নষ্ট হবার কোন সম্ভাবনা নেই বেবি তরমুজে।


সুবর্ণচর উপজেলার ২ নং চরবাটা ইউনিয়নের বেবি তরমুজ চাষি মো. মিজান জানান, বেবি তরমুজ চাষে ২৫ শতাংশ জমিতে তার খরচ হয়েছে ১৫০০ টাকা। প্রতি কেজি ৭০-৮০ টাকা দরে বিক্রি করলে ৩৫-৪০ হাজার টাকা বিক্রি সম্ভব। সাধারণত মৌসুমে তরমুজে এ পরিমাণ জায়গায় খরচ হবে ২০-২৫ হাজার টাকা। সাধারণ কৃষকদের বেবি তরমুজ চাষে উদ্বুদ্ধ করলে এতে কৃষকরা আরো লাভবান হবে বলে জানান বেবি তরমুজ চাষি মো. মিজান। মিজানের পাশাপাশি সুবর্ণচরে বেবি তরমুজ চাষে সাফল্য অর্জন করেছে মো. হেলু মিয়া ও ভুলন মিয়া।

সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থার কৃষি কর্মকর্তা শিবব্রত ভৌমিক জানান, ২য় বারের মতো আমরা সুবর্ণচরের ইউনিয়নের মোট ছয়টি স্থানে বেবি তরমুজ চাষ শুরু করি। গতবারের চেয়েও এবার আমরা ভালো ফলন অর্জন করেছি। আগামীতে ব্যাপক হারে এর প্রসারের পরিকল্পনা রয়েছে।

শিবব্রত ভৌমিক আরোও জানান, এ তরমুজ সাধারণত লাল এবং হলুদ রঙের আর দেশীয় তরমুজের চেয়ে অত্যাধিক মিষ্টি। এছাড়াও মৌসুমের আগে হওয়ায় এর চাহিদা বেশি থাকায় ভালো দাম পাওয়া যায়। যদি ভালো মতো পরিশ্রম আর সঠিক পরামর্শ পেয়ে থাকেন, তাহলে বেবি তরমুজ চাষে ব্যাপক লাভবান হবেন সুবর্ণচরের কৃষকরা।